হায়দ্রাবাদ দর্শনীয় স্থানসমূহ

শহরের কেন্দ্রস্থলে বিস্ময়কর এক খিলান রয়েছে যার নাম চরমিনার এটা তৈরী হয়েছিল মুহাম্মদ কুলি কুতুবের সময়ে ১৫৯১ সালে। এই বিশাল কাঠামো নির্মানের পিছনে যে কারনটি ছিল শাসক মনে করেছিলেন এটা প্লেগ হওয়ার খারাপ শক্তিকে প্রতিরোধ করবে। ৫৬ মিটার উঁচু খিলান চারটি মিনারসহ মনোলোভা চৌকোনা তোরণে পরিণত হয়েছে এবং এতে আরও সৌন্দর্য যুক্ত হয় যখন প্রতি সন্ধ্যায় একে বাতি সজ্জিত করা হয়।

মক্কা মসজি
চরমিনারের কাছাকাছি দশ হাজার মুসল্লীর ধারনক্ষমতা সম্বলিত বিশাল মক্কা মসজিদ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত মসজিদ। মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ এর সময়ে ১৬১৪ সালে এটা নির্মনের পরিকল্পনা করা হলেও এটা সম্পূর্ণ হয় ১৬৮৭ সালে যখন সম্রাট আওরঙ্গজেব গোলকু্‍ন্ডাকে সাম্রাজ্যভূক্ত করেন। এটা পর্যটকদের জন্য অবশ্য দর্শনীয় স্থান।

সালার জং যাদুঘর
নগরীর অন্য একটি আকর্ষণ কেন্দ্র হলো সালার জং যাদুঘর যা পৃথিবীর একক বৃহত্তম সংগ্রহশালা যেখানে ৩৫টি রুমে ৩৫,০০০ সংগ্রহ স্থান পেয়েছে। মীর ইউসুফ আলি খান সালার জং তৃতীয়, নিজামের মূখ্যমন্ত্রি এর প্রতিষ্ঠাতা। এই যাদুঘরে দুর্লভ সংগ্রহ রয়েছে যেমন, জেড পাথর, মার্বেল প্রতিমা, দুর্লভ পান্ডুলিপি, পারস্য ক্ষুদ্রাকৃতি চিত্রাংকন এবং চীনা পোর্সলিন।

গোলকুন্ডা দুর্গ
শহর থেকে কিছু দুরে দেশের মধ্যে তৈরী সবচেয়ে সুন্দর গোরকুন্ডা দুর্গ অবস্থিত। দুর্গটি কুতুব শাহী রাজত্বের সময়ে তৈরী বলে মনে করা হলেও এটা আসলে যাদব অথবা কাকাত্যিয় শাসকদের সময়ে তৈরী। ১২০ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপরে অবস্থিত দুর্গটির চারিদিকে গোলা নিক্ষেপের জন্য ফোকরসহ সুরক্ষিত দেয়াল এবং আক্রমণকারী বাহিনীর হাতির আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য লোহার কীলকসহ শক্তিশালী প্রবেশদ্বার রয়েছে। দুর্গের শব্দ পরিকল্পনা অত্যন্ত উন্নত কেননা প্রবেশদ্বারে কেউ হাততালি দিলে সেটা পাহাড়ের মাথা থেকে শোনা সম্ভব। দুর্গ নির্মানে এই সব পরিকল্পনা আশ্চর্যজনক প্রকৌশল বিদ্যার পরিচয় বহন করে। দুর্গের বহির্দেয়ালের ঠিক পাশেই সুন্দর বাগানে রয়েছে কুতুব শাহী শাসকদের রাজকীয় সমাধি।

নেহরু জুওলজিক্যাল পার্ক
এই পার্কটি দেশের বৃহত্তম চিড়িয়াখানাগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রচুর জীব-জানোয়ার ও পাখি রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী বিভাগ, খেলনা ট্রেন, সিংহের সাফারী হলো এখানকার উল্লেখযোগ্য ফিচার।

বিড়লা মন্দির
সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল পাথরে তৈরী বিড়লা মন্দির মনোলোভা পর্যটন কেন্দ্র। একটি পাহাড়ের মাথায় দাড়িয়ে আছে এই মন্দির যেখান থেকে দেখা যায় হুসেন সাগর যা এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা করে।

অন্যান্য কয়েকটি স্থানের মধ্যে হেমায়েত সাগর অন্যতম যেটা একটা সুন্দর হ্রদ, শহর থেকে প্রায় ২৩ কি.মি. দুরে। এই হ্রদ একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। শহরের ১৪৯ কি.মি. দুরে নাগার্জুনসাগর(নাগার্জুনকোন্দা) অবস্থিত যা একসময় প্রাচীন বৌদ্ধদের প্রধান বাসকেন্দ্র ছিল। ওয়ারাঙ্গাল, কাজিপেট এবং হানামকোন্ডা কাকাত্তিয় যুগের স্থাপত্য সৌন্দর্যে ভরপুর যা শহর থেকে ১৫৭ কি.মি. দুরে।

Social Media