হায়দ্রাবাদ ট্রাভেল গাইড

কুতুব শাহী শাসকরা হাইদেরাবাদ শহরের গোড়াপত্তন করেন। ১৫৮৯ সালে মুহাম্মদ কুতুব শাহ তাঁর রাজধানী গোলকুন্ডা থেকে নদী তীরবর্তী মুসীতে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন। এখানে তিনি তাঁর রাজত্ব বর্ধিত করার সংকল্প করেন যার ফলে এই আকর্ষণীয় শহরের পত্তন। হাইদেরাবাদ শহরে তুলনাহীন রাজপ্রাসাদ আর মসজিদ সমূহ ভারতের অন্যান্য শহরগুলি একে আলাদা করেছে। হাইদেরাবাদের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো এটাই দক্ষিণের একমাত্র শহর যেখানে উদু ভাষা প্রচলিত।

শিল্পকলায় হায়দ্রাবাদ
হাইদেরাবাদ নাচ ও গানের মতো শিল্প কলায় সমৃদ্ধ স্থান। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী কুচিপুরি নাচ চলচ্চিত্র মাধ্যমে সমাদৃত এবং একই সময়ে প্রসিদ্ধ স্টেজ পারফরমেন্সও অন্ধ্র প্রদেশকে বিশেষত্ব দিয়েছে। এই চিরায়ত নাচ হিন্দু মহাকাব্য ও লোককাহিনীর আবক্ষ মুর্তকে সামনে নিয়ে আসে মনোমুগ্ধকর নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে।

পুতুল নাচ এই শহরের বিখ্যাত লোকশিল্প যাতে প্রদর্শনের জন্য পুতুলের ছায়াকে ব্যবহার হয়। মাঝে মাঝে চামড়ার পুতুলকে ব্যবহার করা হয় পৌরাণিক কাহিনী ও শিল্পকে তুলে ধরার কাজে। অধিক আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর করতে পুতুল নাচের সাথে সঙ্গীত যোগ করা হয়। এইভাবে শহরটি ভিজিটরদের জন্য আনন্দের ব্যবস্থা করে নিজেকেও ঐতিহ্যে ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ করে।

হস্তশিল্পও এই শহরের অন্যান্য জনপ্রিয় জিনিসের মধ্যে একটি যা সস্তায় কেনা যায়। চরকামান, মিট্টি কা শের এবং লাড় বাজারের মতো জায়গায় সারা দেশ থেকে সংগৃহিত হস্তশিল্প প্রদর্শন করা হয় যার মধ্যে আছে বিদ্রিওয়্যার, হুকা, বাক্স, বন্দুকের কালো ধাতু দিয়ে তৈরী ফুল জ্যামিতিক প্যাটার্ণে রুপার কারুকাজ করা অলংকার, জরির কাজ করা ঘাগরা, ব্যাগ এবং বানজারা ও লামবাড়ি জিপসি উপজাতিদের করা আয়না ও পুতি মেলানো বেল্ট ইত্যাদি। এছাড়াও আছে নির্মল ল্যাকারওয়্যার, পেমবার্থির পিতল, কোন্দাপল্লীর বাকানে খেলনা, চামড়ার পুতুল এবং ওয়ারাঙ্গাল কার্পেট। চরমিনার ও লাড় বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এনটিক কুন্দন ও এনামেল অলংকার, মন্দির শাড়ি, পুরাতন বিদ্রিওয়্যার এবং অপরূপ সুন্দর মুক্তা পাওয়া যায়।

Social Media