বেঙ্গালোরে দর্শনীয় স্থানসমূহ

কুব্বন পার্কের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত বিধান সৌধ নিও-দ্রাবিড়িয়ান রীতিতে নির্মিত ভারতের অসাধারণ স্থাপত্য সৃষ্টি। এটা ততকালীন মূখ্যমন্ত্রী কেঙ্গাক হনুমানথায়া উদ্বোধন করেন। এখানে আইনসভা ও সচিবালয় একসাথে রয়েছে।

লাল বাগ এবং কুব্বন পার্ক
অষ্টাদশ শতকে হাইদার আলী ও তাঁর পুত্র টিপু সুলতান এই সুন্দর লাল বাগের পত্তন করেন। বাগানের ২৪০ একরের জমিতে পৃচুর গাছপালা এমনকি দুর্লভ গ্রীষ্মমন্ডলীয় গাছপালা রয়েছে। এখানে একটি হরিণ পার্কও রয়েছে। পরবর্তীতে কাচনির্মিত একটি সংরক্ষণাগার তৈরী করা হয় বার্ষিক ফুল ও ফল প্রদর্শনের জন্য। ৩০০ একরের সুন্দর কুব্বন পার্ক ১৮৬৪ সালে নির্মিত হয়। পাবলিক লাইব্রেরী, হাই কোর্ট, সরকারী যাদুঘর এবং বিশে¦শ¦রাইয়া শিল্প ও প্রযুক্তি যাদুঘর এই পার্ক ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থিত। হাই কোর্ট বিল্ডিং ১৮৬৪ সালে এবং সরকারী যাদুঘর ১৮৮৬ সালে নির্মিত হয় প্রচুর প্রাচীন সংগ্রহসহ। হেলবিড ও বিজয়নগর কালের মুদ্রা, শিল্প এখানে সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আছে এবং এগুলি যাদুঘরের উলে¬খযোগ্য সংগ্রহ।

গ্রীষ্ম প্রাসাদ
সিটি মার্কটের কাছাকাছি যে দুর্গের অবশেষ রয়েছে তা ছিল টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ। এই সুবিশাল প্রাসাদ দেখতে অত্যন্ত চমতকার। এখানে একটি যাদঘর রয়েছে যেখানে টিপু সুলতান ও হাইদার আলীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র রয়েছে।

বেঙ্গালোরের মন্দির
বেঙ্গালোরে প্রচুর সুন্দর সুন্দর মন্দির রয়েছে। শহরের দক্ষিণে রয়েছে নগরীর প্রতিষ্ঠাতা কেমপে গৌড়ার বাসভাঙ্গুড়ী ষাঁড় মন্দির। এটা একক বোল্ডার দিয়ে তৈরী ষাঁড়ের সদৃশ ১৫ ফুটের খোদিত কাঠামো। গ্রীষ্ম প্রাসাদের কাছে ৩০০ বছরের পুরনো উদয়ার্স নির্মিত ভেঙ্কটারমনাস্বামী মন্দির রয়েছে। মন্দিরের অবস্থা এখনও সুন্দর রয়েছে।

গাভী গঙ্গাধারাশে¦রা মন্দির অন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। এটা এমনভাবে তৈরী একটি গুহা মন্দির যেখানে সংক্রান্তি উতসবের সময় সূর্য বাইরে নির্মিত ষাঁড়ের উভয় শিঙের মধ্য দিয়ে কিরণ দেয় যাতে করে ভগবান শিবের ছায়া ফুটে উঠে। ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে কেমপে গৌড়া নির্মিত উলসুর একটি বিখ্যাত মন্দির যেটা সোমেশ¦রা মন্দির নামে পরিচিত।

বেঙ্গালোরে হ্রদসমূহ
নগরীর আশপাশে কয়েকটি হ্রদ রয়েছে যেখানে নৌবিহারের ব্যবস্থা রয়েছে। অবশ্য দর্শনীয় হ্রদগুলি হলো উলসুর হ্রদ, শংক ট্যাংক, ইয়েদিউর ট্যাংক এবং লাল বাগ হ্রদ। এই হ্রদগুলি ভ্রমণে দর্শনার্থীগন মৃদু বাতাস ও বিশ্রাম উপভোগ করতে পারবেন।

বেঙ্গালোরের আশপাশের জায়গাগুলি
নৃত্য গ্রাম ও হ্রদ
শহরের ৩৫ কি.মি. দুরে হেসারাঘাটা নামে অজ গ্রাম রয়েছে যেখানে মানুষ তৈরী একটি আকর্ষনীয় হ্রদ রয়েছে। এখানে বিখ্যাত নৃত্য গ্রাম রয়েছে যেখানে নাচের বিভিন্ন কলার উপর চমতকার প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এই সুন্দর গ্রামটি চমতকার এক দর্শনীয় স্থান।

ব্যানারঘাটা ন্যাশনাল পার্ক
ব্যানারঘাটা ন্যাশনাল পার্ক শহর থেকে প্রায় ২১ কি.মি. দুরে অবস্থিত। পার্কের একটি অংশে মিনি চিড়িয়াখানা, কুমিরের ফার্ম, সিংহ ও বাঘের সাফারি পার্ক আছে।

নন্দী পাহাড়ী অবকাশকেন্দ্র
নন্দী পাহাড়ী অবকাশকেন্দ্র বেঙ্গালোরের ৬০ কি.মি.দুরে অবস্থিত এবং এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠের ১৪৭৮ মিটার উপরে। এটা সবধরনের দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

পাহাড়ী এলাকাসমূহ
শিবগঙ্গা এবং সাবানদুর্গা এলাকাগুলো পাহাড়ী, নগরীর প্রান্তে এগুলি সহজেই চোখে পড়বে। এই এলাকার কোন অংশ দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয় এবং কেমপে গৌড়া এখানে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন। দর্শনার্থীগন এই সুন্দর পাহাড় পরিদর্শন করতে পারেন এর অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

মহিশুরের ট্যুরিস্ট স্পটসমূহ
বেঙ্গালোর সিটির ১৪১ কি.মি. দুরে চিত্তাকর্ষক মহিশুর নামক জায়গা অবস্থিত যেখানে একসময় হাইদার আলী ও টিপু সুলতানের রাজধানী ছিল। এই শহরে অনেক ট্যুরিস্ট স্পট রয়েছে তার মধ্যে কিছু কিছু অসাধারন সৌন্দর্যের অধিকারী যেমন মহিশুর প্রাসাদ, বৃন্দাবন বাগান ইত্যাদি। অন্য আরও বিখ্যাত স্থান হচ্ছে চামুন্দি পাহাড়, জয়াচামারাজেন্দ্র আর্ট গ্যালারী, জগনমোহন প্রাসাদ, মহিশুর চিড়িয়াখানা এবং সাধু ফিলোমেনার চার্চ।

সোমনাথপুর মন্দির
মহিশুর থেকে ৪০ কি.মি. দুরে অবস্থিত বিখ্যাত তারকা আকৃতির এই মন্দির ১২৬০ খৃস্টাব্দে নির্মিত হয় যা হোইসালা স্থাপত্যের মহত্ব প্রকাশ করছে। ছোট এলাকাগুলির মধ্যে আছে শ্রীরঙ্গাপত্নার কাছে রঙ্গনাথিত্তু পাখি তীর্থস্থান।

বেঙ্গালোরে উতসবসমূহ
মার্চ অথবা এপ্রিল মাসে ধর্মমারাইয়া মন্দিরে জাকজমকের সাথে কারাগা উতসব পালিত হয়। কারাগা মানে পাত্র যা শক্তির দেবীকে উতসর্গ করা হয়। এই পাত্র একটা বিশেষ সময়ে বের করে আনা হয় এবং শহরের ২০ কি.মি. দুরে অবস্থিত শাম্পাঞ্জি জলাধারে ডোবানো হয়।

Social Media