পুনে দর্শনীয় স্থানগুলি

সাধারণভাবে মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে পরিচিত পুনে মুম্বাই এর ১৭০ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। স্তদশ শতকের মহান মারাঠা শাসক ছত্রপতি শিবাজি যিনি এখানকার শিবনেরী দুর্গে জন্বগ্রহণ করেন তাঁর মূল কেন্দ্র ছিল এই শহর। পুনে পেশওয়ার একটি আসনে পরিনত হয় এবং যার অধীনে মারাঠা শক্তি একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিনত হয়। পেশওয়াগন শিল্পের পৃষ্ঠপোশক ছিলেন এবং শহরকে মন্দির, বাগিচা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ করেন।

পুনে ট্রাভেল গাইড
এখানেই লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে স্বদেশী নীতির সূচনা করেন। আজ পুনে ভারতের একটি প্রধান মহানগরী যেখানে ফিল্ব ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমীর মূল কেন্দ্র রয়েছে। এটা দ্রুত দেশের শিল্প ও বানিজ্যের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

পুনের দর্শনীয় স্থানগুলি
পুনেতে ও পুনের আশপাশে দেখার মতো প্রচুর স্থান রয়েছে। নিম্নে প্রধান কিছু দর্শনীয় স্পটের পরিচিতি রয়েছে।

আগা খান প্রাসাদ- কস্ত্তর্ব গান্ধী স্মৃতি মন্দির
এই সুন্দর প্রাসাদে স্যুট ও সেলুন রয়েছে এবং এটা একটা বিরাট ঐতিহাসিক চিহ্ন। এখানেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মহাত্বা গান্ধী ও অন্যান্য নেতা ভারত ছাড় আন্দোলনের সময় কারারুদ্ধ ছিলেন। এখানে কস্ত্তর্ব গান্ধীর সমাধি রয়েছে যিনি ছিলেন মহাত্বা গান্ধীর স্ত্রী।

বুন্দ বাগান
বর্তমানে মহাত্বা গান্ধী উদ্যান নামে পরিচিত এই বাগান সমূহ মুলা-মুথা নদীর তীরে অবস্থিত। বুন্দ নির্মান করেছিলেন স্যার জামশেদজী জিজিভয় গরিবদের পানি সরবরাহের জন্য।

জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমী
পুনে থেকে ১৭ কি.মি. দুরে খাদকভাসলায় জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমী অবস্থিত। এই একাডেমী সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

প্রভাতি মন্দির
পেশওয়া শাসকগন এই সুন্দর প্রভাতি সমাধি মন্দির নির্মান করেন যা বর্তমানে জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে পাহাড়ের মাথায় সেইসাথে পাশাপাশি দেবদেবেশ¦র মন্দিরও। এই মন্দিরে একটি যাদুঘরও রয়েছে যেখানে প্রাচীন দুর্লভ সংগ্রহের অমূল্য চিত্র, পুরাতন পান্ডুলিপি, অস্ত্র ও মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে।

রাজা দিনকর কেলকার যাদুঘর
এই যাদুঘর রাজস্থানী রীতির অনুকরণে নির্মিত সু্‍ন্দরতম ভারতীয় কৃত্রিম শিল্প। সর্বমোট ৩৬টি শাখার প্রত্যেকটি এ্যানটিক, খোদাই করা প্রাসাদ দরজা এবং অনুচিত্রকলা এখানে স্থান পেয়েছে। সাতারার মুখ্যমন্ত্রী পেশওয়া বাজিরাও এর স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে ‘মস্তানী মহল’। মহারাষ্ট্র সরকারকে শ্রী দিনকর কেলকার প্রদানকৃত এই বিস্ময়কর সংগ্রহ নিয়মিত বিরামে প্রদর্শিত হচ্ছে।

শনিবারবাড়া
একদা পেশওয়া শাসকদের প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল ১৭৩৬ সালে। ১৮২৭ সালে আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরে যা রয়েছে তা হলো সুরক্ষিত দেয়াল ‘নগরখানা’ এবং পব্ম পুল।

পটলেশ¦র গুহা মন্দির
অন্য একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র হলো অষ্টম শতকে নির্মিত পাহাড় কাটা মন্দির যা শিবাজিনগরে অবস্থিত। বিস্ময়করভাবে, পুরো মন্দির একটি পাথর কেটে তৈরী সেসাথে রয়েছে উর্ধমুখী স্তম্ভ যা শিব মন্দির ও নন্দী ষ্বাঁড়কে ধারণ করেছে। এই উজ্জ্বল স্থাপত্যকর্ম আধুনিক প্রকৌশলী ও পর্যটকদের বিস্ময় সৃষ্টি করে।

সরস ভোগ
প্রকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত চিত্তাকর্ষকভাবে নির্মিত গনেশ মন্দির নির্মিত হয়েছিল মাধবরাও পেশওয়া কর্তৃক যা পুনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র এবং বর্তমানে জনপ্রিয় সান্ধ্য ভ্রমণস্থানে পরিণত হয়েছে।

শিন্দের ছত্রী
পুনেতে সব আকর্ষণীয় পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্ররে মধ্যে মহান মারাঠা বীর মাধবজী সিন্দের এই স্মৃতিসৌধ হলো অবশ্য দর্শনীয় যেখানে ছাতা এবং তাঁর আবক্ষ প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে।

লাল দেবাল (সিনাগগ)
১৮৬৭ সালে বিখ্যাত স্থপতি ও প্রকৌশলী ডেভিড সাওন নির্মিত বিস্ময়কর এই ভবন সম্পূর্ণ লাল ইট এবং ট্রাপ স্টোন দিয়ে তৈরী যা ইংলিশ-গোথিক রীতিভুক্ত।

পাষাণ লেক
এনডিএ এর ১২ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত মনোমুগ্ধকর পাষাণ হ্রদ পর্যটকদের কাছে এক বিস্ময়কর দর্শনীয় স্থান সন্ধ্যার মৃদুমন্দ বাতাস উপভোগের জন্য। এই হ্রদ অতিথি পাখি ও স্থানীয় পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়।

দ্য ফিল্ব এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)

ভারতের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট দেশের মধ্যে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং দর্শনীয় স্থান। এই ইনস্টিটিউটে চলচ্চিত্র নির্মান ক্ষেত্রের সব প্রশিক্ষণ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে এবং এখান থেকে বেশ কিছু উচ্চমানসম্পন্ন নির্মাতা বেরিয়ে এসেছেন।

পুনে বিশ¦বিদ্যালয় ভবন
গনেশখিন্দে অবস্থিত চমতকার বিশ¦বিদ্যালয় ভবনটি মৌসুমী ঋতুতে মুম্বাই এর গভর্ণর কর্তৃক দখল হয়ে যায় তাঁর অফিসিয়াল বাসভবন হিসেবে। ভারতীয় গোথিক স্টাইলে তৈরী এই ধুসর রংয়ের পাথরনির্মিত ভবন বৃহত এবং বিশাল সেই সাথে আঙ্গিনা ও সাঁতার কাটার পুল রয়েছে।

যোগ ইনস্টিটিউট
এখানে পরিদর্শনযোগ্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত যোগ কেন্দ্র রয়েছে যার নাম রামামানি ইয়েঙ্গার স্মৃতি যোগ ইনস্টিটিউট। মি. বিকেএস ইয়েঙ্গার এখানকার পরিচালক। এখানে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। সব কোর্স ব্যক্তির প্রয়োজন ও সময়ের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।

পুনেতে দর্শনীয় স্থানসমূহ
করলা ও ভাজা গুহা

করলা ও ভাজা পাহাড়ীস্থান প্রথম ও দ্বিতীয় খৃস্টপূর্বাব্দের। এটা পুনের ৫০ থেকে ৬০ কি.মি. দুরে। এই গুহার সৌন্দর্য এই যে এখানে অসংখ্য আবাস গুহা রয়েছে যেগুলি বিহার নামে পরিচিত এবং রয়েছে চৈত্যদের যাদেরকে বৌদ্ধ সন্নাসী বলা হয় তাদের অনেক উপাসনাস্থান।

পুনের আশপাশের বড় দুর্গসমূহ
লোহাগড় ও বিসাপুর

পুনে থেকে ৫২ কি.মি. দুরে কয়েকটি চিত্তাকর্ষক জমকালো আকাশমুখী দুর্গ রয়েছে। এগুলো অষ্টাদশ শতকে তৈরী। পর্যটনের জন্য এটা আদর্শস্থানীয়।

শিবনেরী দুর্গ
পুনের ৯৪.৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত শিবনেরী দুর্গ আরেকটি দর্শনীয় স্থান। এই দুর্গের মুগ্ধকর বৈশিষ্ট হলো এটা একটা মসজিদ যার দু’টি মিনার রয়েছে সুন্দর একটি খিলান দ্বারা যুক্ত।

সিংহগড় দুর্গ
সিংহ গড় দুর্গ শহর থেকে ২৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত। শিবাজীর সিংহ হৃদয় সেনাপতি তানাজি মালুসারির নামানুসারে এর নাম হয়েছে। এই বিস্ময়কর সিংহ দুর্গ ১২৯০ মিটার উপরে অবস্থিত। এর ইতিহাস শুরু হয়েছিল তিনশ বছর আগে যখন মারাঠা বীর তানাজি মধ্যরাতে বিশাল বাহিনী নিয়ে নিরবে বিজাপুর নগরদুর্গ আক্রমন করেন যা ইতিহাস সৃষ্টিকারী। বীর তানাজির স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত সমাধি মারাঠা বীরদের বীরত্ব ও গৌরবজনক বিজয়ের প্রতিফলন। ধারনা করা হয়, শিবাজি বলেছিলেন, ‘আমরা দুর্গ দখল করেছি কিন্ত্ত সিংহকে হারিয়েছি’ যখন তিনি তানাজির মৃত্যু সংবাদ অবহিত হন। এইভাবে এই দুর্গের নাম সিংহ গড় হয়েছিল।

দর্শনীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরসমূহ
দেহু এবং আলান্দি

ইন্দ্রানী নদীর তীরে দেহু নামক জায়গায় ১৭ শতকে তুকারাম নামে শ্রেষ্ঠ মারাঠি সন্নাসী জন্বগ্রহণ করেন। এখানে আলান্দি নামে অন্য একটি জায়গা রয়েছে পুনে থেকে ২২ কি.মি. দুরে যা একটি তীর্থস্থান এবং যেখানে বিখ্যাত সন্নাসী কবি দিনেশ¦রের সমাধি রয়েছে।

ভীমশংকর
পুনে থেকে ১২২ কি.মি. দুরে অলংকারখোদিত শিবমন্দির দেশের বারটি জ্যোতির্লঙ্গের মধ্যে একটি। এখানে বার্ষিক মেলা অনুষ্ঠিত হয় মহাশিবরাত্রিতে।

জেজুরী
খানডোবা মন্দিরের জন্য বিখ্যাত জেজুরী একটা সুন্দর পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র। বার্ষিক মেলার সময় মন্দির সারা দেশের পুণ্যার্থীদৈর ভীড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে।

Social Media