থিরুভানানথাপুরাম ট্রাভেল গাইড

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত থিরুভানানথাপুরাম ভ্রমণের জন্য একটা মনোহর জায়গা। এটা দেশের পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুপরিকল্পিত শহরগুলির মধ্যে একটি। কেরালার সবটুকু সৌন্দর্য এই শহরে ফুটে উঠেছে এর বিস্ময়কর সবুজ শস্যভূমি ও মনোমুগ্ধকর সাগর সৈকতের জন্য। এই শহর চমতকারভাবে রাজ্যের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। নগরীতে প্রবেশের সীমান্তে এর মনোহারী রং যে কাউকে বিস্মিত করবে।

থিরুভানানথাপুরাম ট্রাভেল গাইড
লাল টাইলের ছাদ, সীমাহীন তাল গাছের সারি, হতবুদ্ধিকরা সরু ও আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং সর্বোপরি সাগর এক মনোমুগ্ধকর সংমিশ্রণ তৈরী করেছে। এর মনোহারিত্ব ও চমতকারিত্ব পর্যটকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে। এটা নিশ্চিত যে এই স্মরণীয় শহর প্রত্যেক পর্যটকের হৃদয় জয় করবে।

থিরুভানানথাপুরামের দর্শনীয় স্থানগুলি
শ্রী পব্মনাভিস্বামী বিষ্ণু মন্দির

এম জি রোডের দক্ষিণ প্রান্তে পব্মনাভিস্বামী বিষ্ণু মন্দিরের কাছে নগরীর প্রধান ঐতিহাসিক আকর্ষণ দুর্গটি রয়েছে। এই দুর্গ মন্দিরের প্রবেশদ্বার যা তৈরী হয়েছে দ্রাবিড়িয়ান স্থাপত্যরীতিতে। মন্দিরটি পবিত্র স্মৃতিমন্ডিত ও উতসর্গীকৃত বর্তমান দেবতা থিরুভানানথাপুরাম, প্রভু বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে। ত্রীবাঙ্কুরের মহারাজা ১৭৩৩ সালে এটা নির্মান করেন। শহরের নামকরণ এই মন্দিরের নাম থেকে এসেছে, এখানে ভগবান বিষ্ণুকে তার সাপ অনন্থের উপর হেলান দেওয়া দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এই মন্দির শুধু হিন্দুদের জন্য উন্বুক্ত।

নেপিয়ার যাদুঘর
নগরীর অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হলো নেপিয়ার যাদুঘর, চিড়িয়াখানা ও পার্কের পাশেই এর অবস্থান। পুরাতন ভবনের এই যাদুঘরে ব্রোঞ্জ, আইভরী খোদাই, প্রাচীন সঙ্গীত যন্ত্র এবং কথাকলি নর্তক-নর্তকীদের স্বাভাবিক আকারের মুর্তিসমূহ রয়েছে।

শ্রী চিত্র শিল্প গ্যালারী
শ্রী চিত্র আর্ট গ্যালারীতে মুঘল চিত্রাংকন, তানজোর ও রাজপুত বিদ্যালয় এবং বিশেষ অংশ উতসর্গীকৃত হয়েছে রাজা রবি বর্মার ছবির প্রতি। এছাড়াও চীন, বালি, তিব্বত এবং জাপানের শিল্পকর্ম এখানে স্থান পেয়েছে।

থিরুভানানথাপুরামের জুওলজিক্যাল গার্ডেন

এই জুওলজিক্যাল গার্ডেনকে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সুপরিকল্পিত বলে গন্য করা হয়। চিড়িয়াখানার মধ্যেকার বোটানিক্যাল গার্ডনে গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রায় সমস্ত গাছ স্থান পেয়েছে। নগরীর সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত মানমন্দিরটি থিরুভানানথাপুরামের অন্যতম চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য নিদর্শন।

থিরুভানানথাপুরামে দর্শনীয় স্থানসমূহ
ভেলি লেগুন

নগরীর বিমানবন্দর থেকে স্বল্প দুরত্বেই রয়েছে ভেলি লেগুন, লেগুনের পাশে নির্মল পর্যটন গ্রাম। ভ্রমণকারীগন এখানে জলক্রীড়া উপভোগ করতে পারেন।

কোভালাম সৈকত
বিখ্যাত কোভালাম সমুদ্র সৈকতে যেতে শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগে। এটা বিশে¦র সুন্দরতম সৈকত গুলির একটি এর সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য। এর নিরাপদ তট তরঙ্গক্রীড়া, সাঁতার ও সমুদ্রস্নানের উপযুক্ত স্থান। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে যোগ, আয়ুর্বদিক সংবাদ ও জলক্রীড়ার সুবিধা রয়েছে। এখানে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

নেইয়ার ড্যাম
নেইয়ার ড্যাম শহরের ২৯ কি.মি. সম্মুখে অবস্থিত। এর কাছেই একটা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রম ও একটা কুমির খামার আছে। এখানে নৌবিহারের সুন্দর ব্যবস্থা ও পাহাড়ে দুর্গম পথ দেখার ব্যবস্থা আছে।

পনমুড়ি
থিরুভানানথাপুরাম থেকে ৬১ কি.মি. দুরে এবং সী লেভেলের ৩০০০ ফিট উপরে পনমুড়ি হলো আদর্শ হ্যামলেট। স্থানীয় জনগনের সাথে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে গেলে দেখা যাবে এখানে গর্ব করার মতো আকর্ষণীয় কটেজ এবং সিলভান পাহাড়ে দর্শনীয় সীমাহীন দুর্গম পথ রয়েছে। এখানে রাত্রিযাপনের সুব্যবস্থা আছে।

কোল্লাম
শহর থেকে ৬৬ কি.মি. দুরে অবস্থিত কোল্লাম ছিল রাজ্যের প্রাচীন বন্দর যেখানে সারা বিশ¦ থেকে জাহাজ আসতো। এখানে আস্তামুড়ি হ্রদ, প্রাচীন চার্চ, থিরুমুল্লাভরম সৈকত এবং কিছু হিন্দু তীর্থস্থান রয়েছে। এখান থেকে আল্লাপুজার নিস্তরঙ্গ জলে নৌবিহারের ব্যবস্থা আছে এবং রাত্রিযাপনের ভাল ব্যবস্থা রয়েছে।

থিরুভানানথাপুরামের উতসব সমূহ
সারা শহরে সাড়ম্বরে পালিত বড় উতসব হলো ওনাম যা নতুন বছরে ফসল মাড়াই এর মৌসুমে পালিত হয় এবং এটা পালিত হয় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে। আরেকটি জমকালো অনুষ্ঠান যা সারা থিরুভানানথাপুরাম শহরকে নতুন রূপ দান করে তা হলো থ্রীশুর পুরাম- বার্ষিক মন্দির উতসব। এই উতসবমুখর দিনগুলোতে সারা শহর রঙে ও কৌতুকানন্দে উচ্ছল হয়ে ওঠে। এই উতসবে যোগ হয় ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত নাচ।

Social Media