কোলকাতা দর্শনীয় স্থানসমূহ

সৌন্দর্যমন্ডিত কোলকাতা নগরীতে প্রবেশ করলেই হাওড়া ব্রীজের বিশাল কাঠামো চোখে পড়ে। ব্রীজের রাজকীয় নির্মানশৈলী ও অবকাঠামো এতই চিত্তাকর্ষক যে, দর্শনার্থীদের মনে একটা অভিঘাত সৃষ্টি করে। ২৭০ ফুট উচু দুইটি মূল স্তম্ভ ও অন্যান্য স্তম্ভসমূহ একে বিশালাকৃতির অবকাঠামোয় রূপ দিয়েছে। গড়ের মঠ হলো আরেকটি দর্শনীয় স্থান যেটা প্রবহমান নদীর ধারে অবস্থিত এবং প্রচুর খেলাধুলা ও শোভাযাত্রা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এর বিপরীতেই মনোহর চৌরঙ্গি বীথি।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
অনেক বিখ্যাত চিহ্নের মধ্যে নগরীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল যাদুঘর হলো চিত্তাকর্ষক সাদা মার্বলের তৈরী এক স্বপ্নসৌধ যা বৃটিশ সাম্রাজ্যের সবটুকু স্মৃতিচিহ্ন বহন করে । এটা সম্পূর্ণ করতে প্রায় পনের বছর সময় লেগেছিল এবং শিল্প গ্যালারীর উপস্থিতি স্থানটিতে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করেছে।

অচটারলনী মনুমেন্ট
নগরীর উত্তর প্রান্তে ৪৮ মিটার উচ্চ একটি স্তম্ভ দেখতে পাওয়া যায় যাকে অচটারলনী মনুমেন্ট বলে। এটাও দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এই মনুমেন্টকে বর্তমানে শহীদ মিনারও বলে।

ইডেন গার্ডেন
কোলকাতার পরবর্তী সুন্দর ও জগদ্বিখ্যাত আকর্ষণ হলো ইডেন গার্ডেন যার পাশে মনোহারী লেক রয়েছে সেইসাথে রয়েছে অসাধারণ এক স্টেডিয়াম যা এর বিশালত্ব ও স্থাপত্যের কারণে ভ্রমণকারীদের মনে ছাপ ফেলে।

বিড়লা প্লানেটেরিয়াম
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থান সব বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামপূর্ণ বিড়লা প্লানেটেরিয়াম যা প্রতি বছর প্রচুর দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। পাশেই এখানে একটি জুওলজিক্যাল গার্ডেন রয়েছে।

বিভিন্ন আর্ট যাদুঘরসমুহ
শহরের ভিতরে এবং বাইরে প্রচুর আর্ট মিউজিয়াম তার মধ্যে রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়াম, দি একাডেমী অব ফাইন আর্টস, নেহরু চিল্ড্রেন্স মিউজিয়াম, নেতাজী মিউজিয়াম, বিড়লা একাডেমী অব আর্ট এন্ড কালচার, বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম এবং আশুতোশ মিউজিয়াম অব ইন্ডিয়ান আর্ট উলে¬খযোগ্য। এই সমস্ত মিউজিয়ামে অসাধারণ এবং অমূল্য সব সংগ্রহ রয়েছে।

পবিত্র স্থানসমূহ
ব্রাবোর্ন রোডে অবস্থিত ১৬৫০ সালে নির্মিত আমেরিকান চার্চ প্রাচীন নির্মান গুলির একটি। আকবরের সমাধিসৌধের অনুরূপ নাখোড়া সুবৃহত অথবা রবীন্দ্র স্মরণী মসজিদ যা একসাথে ১০,০০০ মুসলি¬ ধারন করতে পারে। পরবর্তী আকর্ষণীয় স্থান হলো শহর থেকে ১০ কি.মি. দুরে অবস্থিত বালুর মাঠ। এটা রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান কেন্দ্র। এই ভবনের সৌন্দর্য এমন যে এর নির্মান মন্দির, চার্চ ও মসজিদের অনুকরণে হয়েছে।

বোটানিক্যাল গার্ডেন
গঙ্গার তীরে শহরের আট কি.মি. দুরে অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেন। এই বাগানের সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে সারাবিশ¦ থেকে সারাবছর এখানে মানুষ পরিদর্শনে আসে। এই বাগানে ২০০ বছরের পুরনো, ২৬ মিটার লম্বা ও ৯০০ মিটার পরিধির বট গাছ ধারনা করা হয় বিশে¦র সর্ববৃহত।

সুন্দরবন
কোলকাতা শহর থেকে কিছুটা দুরে অবস্থিত সুন্দরবন নদী মোহনায় সৃষ্ট পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনভূমি। এই বনে অনেক বন্য প্রাণী বাস করে তার মধ্যে বিশ¦বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বানর, কুমির, অজগর ও বন্য শুকর অন্যতম। এই বন নানা ধরনের পাখি আর সাপে পরিপূর্ণ যা ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য আদর্শস্থানীয়।

জনপ্রিয় সৈকতসমূহ
কোলকাতা শহর থেকে ১৮৫ কি.মি. দুরে অবস্থিত দিঘা খুবই বিখ্যাত সমুদ্র নিবাস, চওড়ায় ৬ কি.মি. ও পৃথিবীর মধ্যে প্রশস্ততম। শহর থেকে ১৩২ কি.মি. দুরে বাকখালী বীচ রিজোর্ট আরও একটি জনপ্রিয় বীচ রিজোর্ট।

দি ডায়ামন্ড হারবার
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান হলো কোলকাতার ৪৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত ডায়ামন্ড হারবার যা ভ্রমণপিয়াসুদের জন্য আদর্শস্থানীয় জায়গা।

দক্ষিণেশ¦র মন্দির
কোলকাতার ১২ কি.মি. দুরে গঙ্গার তীরে রাজকীয় নির্মানশৈলী নিয়ে দাড়িয়ে থাকা দক্ষিণেশ¦র মন্দির পৃথিবীর মধ্যে বিখ্যাত। এই মন্দির দেবী কালির উদ্দেশ্যে নিবেদিত।

শান্তিনিকেতন বিশ¦বিদ্যালয়
কোলকাতা শহর থেকে ১৩৬ কি.মি. দুরে মহান পন্ডিত, কবিগুরু এবং চিত্রকর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত এই শান্তিনিকেতন বিশ¦বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই এই বিশ¦বিদ্যালয় জ্ঞান ও একাডেমিক উতকর্ষতার বিশ¦কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এখানে পরীক্ষামূলকভাবে সাধারণ খোলা আকাশের নীচে ক্লাস নেয়া শুরু হয়। দর্শনার্থীগন এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে চমতকার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।

কোলকাতার উতসব
কোলকাতার অন্যান্য উতসবের কথা বাদ দিলে দুর্গা পুজার উতসব হলো সবচেয়ে জীবন্ত ও মজাদার। এই উতসব দশ দিন ধরে দেবী দুর্গার উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয়। সারা শহরবাসী এতে অংশগ্রহণ করে একে অসাধারণ জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিণত করেন। দেবী দুর্গার নিশ্চল প্রতিমা তৈরী করে চমতকার স্টাইলে সজ্জিত করে প্রদর্শন করা হয় এবং শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে পুজা করা হয়। বসন্ত উতসব, স্বরসতী উতসব এবং হোলী উতসব অন্যান্য উতসবগুলোর মধ্যে অন্যতম।

Social Media