ব্যাংকক ভ্রমণ নির্দশিকা

যখন আপনি ব্যাংকক ভ্রমণ করতে আসবেন একটা জিনিস মনে রাখবেন যে ব্যাংকক থাইল্যান্ডের রাজধানী। রাজা রামা (প্রথম) এই শহর নির্মান করেন। দেশের নতুন ও পুরাতন অংশের সংমিশ্রণ ঘটেছে। সত্যিকার অর্থেই এই শহর থাইবাসীদের পুরাতন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সেইসাথে আধুনিক সমাজের সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে চলার অনুপম দৃষ্টান্ত।

যেভাবেই আপনি দেখুন, এটাই আপনার চোখে পড়বে, এমনকি রাজকীয় পরিবার যে এলাকায় বাস করেন সেখানেও এটা চোখে পড়বে যেখানে থাই সরকার ও প্রশাসনের কেন্দ্র রয়েছে। এটা দেশের শিল্প, বানিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেশের প্রধান বন্দর রয়েছে এবং লোকসংখ্যা যুক্তরাজ্যের এক দশমাংশ। ব্যাংকক শহর শ্যাম উপসাগর পর্যন্ত বয়ে যাওয়া চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত।

শহরে ঘুরতে খুব বেশী অর্থের প্রয়োজন হয়না। ট্যাক্সি ও টুক টুক নামে যান পাওয়া যায় এখানে। এগুলো মটরচালিত ত্রিচক্র যান। নির্দিষ্ট রাস্তায় চলাচলের জন্য বাস রয়েছে যেগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শীতাতপ ছাড়াও। আপনি যদি চাও ফ্রায়ার কাছে থাকেন তাহলে নৌ ট্যাক্সি ও খেয়া পারের ব্যবস্থা রয়েছে। লম্বা লেজওয়ালা নৌকাতেও আপনি ভ্রমণ করতে পারেন আর আপনার জন্য নির্দেশনাসহ ভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভ্রমণের সময় আপনি কেন্দ্রীয় সমতল ভূমি ও আয়ুত্থায়ার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পারেন, ১৭৬৭ সালে ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটা শ্যাম দেশের রাজধানী ছিল। দেখার জন্য আপনি প্রমোদতরীতে চড়তে পারেন। ব্যাংকক থেকে এটা ৮০ কি.মি. দুরে অবস্থিত। একসময় ব্যাংকক কি জাকজমকপূর্ণ ছিল তা আপনি দেখতে পাবেন। পূর্বের রাজকীয় গ্রীষ্মকালীন নির্জনবাস জায়গা বাং পা ইন আজও আপনি দেখতে পাবেন। বিস্ময়কর স্থাপত্যকর্মে এই জায়গা পরিপূর্ণ।

আপনি যদি ধ্বংসাবশেষের উত্তরে যান তবে লোপ বুড়ি পাবেন। শহরটি আপনাকে মুগ্ধ করবে না তবে আপনি এখানেও ধ্বংসাবশেষ পাবেন। এটি কৌতুহল উদ্দীপক জায়গা। ব্যাংকক শহরের পশ্চিমে গেলে আপনি নাখন পাথম দর্শন করতে পারবেন যেটা পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৌদ্ধ মনুমেন্ট। আপনি কোয়াই নদীর উপরে ব্রীজ দেখতে পারেন সেসাথে রোজ গার্ডেন রিজোর্ট। রোজ গার্ডেন রিজোর্টের খুব কাছেই সামফ্রান এলিফ্যান্ট গ্রাউন্ড ও চিড়িয়াখানা অবস্থিত। যদি ব্যাংকক শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে যান সেখানে একটা কুমির খামার দেখতে পাবেন যেটা পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম। এর ঠিক সামনেই পুরাতন শহর। সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি আকর্ষণ আছে এমন যে কেউ এ স্থান ভ্রমণ করতে পারেন।

Social Media