নিংজিয়া হুইকে

নিংজিয়া হুই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল চীনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। দি ইয়েলো রিভার নিংজিয়া হুইয়ের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এর রাজধানীর নাম ঈনচুয়ান।

নিংজিয়া হুই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের ইতিহাস ৩০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে নিংজিয়া হুই ও এর আশপাশের এলাকা কিং রাজবংশের শাসনাধীনে আসে এবং চেঙ্গিস খান ত্রয়োদশ শতকের প্রথমাংশ পর্যন্ত শাসন করেন।

মোঙ্গল প্রভাবের পরে তুর্কীভাষী মুসলমানগন এখানে বসতি শুরু করে কিন্ত্ত এতে হান ও হুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয় যার ফলশ্রুতিতে এখানে মুসলিম বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং কিং রাজত্বের সময়ে বার মিলিয়ন চীনা মুসলমানকে হত্যা করা হয়।

১৯১৪ সালে গানসুকে নিংজিয়া হুইয়ের সাথে একত্রিত করা হয় কিন্ত্ত ১৯২৮ সালে আবার বিচ্ছিন্ন করে গানসু প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।

নিংজিয়া হুইয়ের ভৌগলিক অবস্থান
শাংসি, গানসু এবং ইনার মঙ্গোলিয়ান স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল এর সাথে নিংজিয়া হুইয়ের সীমান্ত রয়েছে। ভ্রমণ করার মতো জায়গা টেঙ্গার মরুভূমি নিংজিয়া হুইয়ের শাপোটাও অঞ্চলে অবস্থিত।

৮.৬ মাত্রার এক মারাত্বক ভূমিকম্প ১৯২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই অঞ্চলে আঘাত হানে যার কারণে কমপক্ষে ২০০,০০০ মানুষ মারা যায়।

নিংজিয়া হুই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের পাঁচটি জেলা রয়েছে তার মধ্যে ঈনচুয়ান হলো এর রাজধানী এবং বাকী জেলাগুলি হলো নিংজিয় এবং গুইয়ান,

শিজুইশান, উঝং এবং ঝঙগুয়েই।
নিংজিয়া হুই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের জলবায়ূ নিংজিয়া হুইয়ে মহাদেশীয় জলবায়ু বিরাজমান এবং গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রী থেকে ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে কিন্ত্ত শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৭ ডিগ্রী থেকে ১০ ডিগ্রী পর্যন্ত নেমে যায়। তাপমাত্রা চরম মাত্রা ধারণ করলে গ্রীষ্মে ৪০ ডিগ্রী ও শীতকালে হিমাঙ্কের ৩২ ডিগ্রী নীচে নেমে যায়।

নিংজিয়া হুই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের অর্থনীতি নিংজিয়া হুই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের বার্ষিক জিডিপি হলো চীনের তৃতীয় নিম্নতম। ২০০৭ সালে ছিল ৮৩.৪ বিলিয়ন ইউয়ান যা জাতীয় অর্থনীতিতে মাত্র ০.৩০%। একই বছরে মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১৩,৭৪৩ ইউয়ান।

নিংজিয়া হুই এর পর্যটন আকর্ষণসমূহ
নিংজিয়া হুইয়ে ভ্রমণকালীন আপনি অবশ্যই জিক্সিয়া টম্ব পরিদর্শন করবেন যা ঈনচুয়ান শহর থেকে ৩০ কি.মি. দুরে অবস্থিত। এখানে জিয়া সম্রাটদের নয়টি সমাধি রয়েছে এবং এছাড়াও ২০০ টি সমাধি রয়েছে। নিংজিয়ায় ভ্রমণে আসলে আপনি শাপাটাউ মরুভুমিতেও ভ্রমণ করতে পারেন যদি হাতে সময় থাকে।

Social Media