জিয়াংসু প্রদেশ

গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের পূর্ব উপকুলে অবস্থিত জিয়াংসু প্রদেশের সাথে আনহুই প্রদেশ, ঝেজিয়াং, শাংহাই মহানগরী এবং শ্যাংডং প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে। ইয়াংতজি নদী জিয়াংসুর দক্ষিণাংশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। অধিকন্ত্ত জিয়াংসু প্রদেশের ১.০২০ কি.মি. সমুদ্র সৈকত রয়েছে হলুদ সাগর বরাবর ।

জিয়াংসু প্রদেশের ইতিহাস
১৯১২ সনে স্বল্পস্থায়ী চায়না রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা পায়। ১৯২৭ সনে নানজিং এ চিয়াং কাই শেকের নতুন সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত বহু সম্রাট দ্বারা জিয়াংসু শাসিত হয়েছে। ১৯৩৭ সনে দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত চিয়াং কাই শেক প্রতিষ্ঠিত জিয়াংসু প্রদেশ সুস্থিত ছিল। শেষ পর্যন্ত চিয়াং কাই শেকের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে থাকে এবং ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৩৭ জাপানী বাহিনী নানজিং/জিয়াংসু দখল করে নেয় এবং পরবর্তী তিন মাস মর্মান্তিক নানজিং গণহত্যা হিসেবে স্মরিত হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ¦যুদ্ধ সমাপ্তির সাথে সাথে নানজিং আবার গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের রাজধানী হিসেবে আত্বপ্রকাশ করে।

কম্যুনিস্ট বাহিনী ও কুওমিনটাং সরকারের মধ্যকার যুদ্ধে কুওমিনটাং সরকার পরাজয় বরণ করে।

ফলস্রুতিতে কুওমিনটাং তাইপেইতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে চীনা সরকার তাইওয়ান শাসন করতে থাকে। কম্যনিস্টরা ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বেইজিং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাজধানী হয় এবং তখন থেকে নানজিং কেবল জিয়াংসুর প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

জিয়াংসুর ভৌগলিক অবস্থান
জিয়াংসু বহু বছর যাবত চীনে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নামে পরিচিত কেননা দক্ষিণের সুঝু শহরের মধ্যে বিভাজনকারী খাল বয়ে গিয়েছে। জিয়াঙসুর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে মাউন্ট ইউনতাই যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬২৫ মিটার উচ্চে। জিয়াংসুর সর্ববৃহত হ্রদ হচ্ছে তাইহু হ্রদ। জিয়াংসু প্রদেশ ভ্রমণের সময় আপনি অবশ্যই নানজিং জিয়াংসুর রাজধানী দেখবেন অবশ্য জিয়াংসুর অন্যান্য অনেক দর্শনীয় শহরগুলিও আপনি দেখতে পারেন যদি হাতে সময় থাকে। অন্যান্য শহরগুলি যেমন, কুনশান, ঝেনজিয়াং, জিয়াংগিয়ান, জিয়াংগুইন, নানটং, গাওইউ, ঈক্সিং, ইয়ানচেং, সুকিয়ান, রম্নগাও, টাইঝুউ, জিংজিয়াং, জুঝুউ, চ্যাংঝুউ, সুঝুউ, হুয়াইয়ান, টাইকাং, উজিয়াং, উক্সি, ইয়াংঝুউ, লিয়ানইয়ুঙ্গ্যাং, ঝাংজিয়াগাং এবং চ্যাংশু।

জিয়াংসুর আবহাওয়া
জিয়াংসুর জলবায়ু ওয়ার্ম, আদ্রতাপূর্ণ এবং প্রায় গ্রীষ্মমন্ডলীয়। জানুয়ারী মাসে গড় তাপমাত্রা -২৭ ডিগ্রী থেকে ৪ ডিগ্রী সে. এবং জুলাই মাসের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী থেকে ৩০ ডিগ্রী সে.। প্রায়ই এখানে টাইফুন আঘাত হানে এবং গ্রীষ্মকাল থেকে শরতকাল পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টি হয়।

জিয়াংসুর স্থানীয় অর্থনীতি
জিয়াংসুর কৃষিজাত পণ্য হলো রেশম, গম, ধান, ভুট্টা এবং সরঘাম। জিয়াংসু প্রদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হলো, সয়া বিন, আমবেরী, গাজা, চীনাবাদাম, আঙুর, তুলা, চা এবং তিসি। এছাড়াও রয়েছে আপেল, পীচ, চীনা ঔষধি গাছ, নাশপাতি ও স্বাদু পানির মাছ যা জিয়াংসুর গুরুত্বপূর্ণ শিল্প।

জিয়াংসুর বিশালায়তনের টেক্সটাইল্‍স ও খাদ্যশিল্প, নির্মান উপকরণ, অটোমোবাইল, ইলেক্ট্রনিক এবং রসায়ন শিল্প রয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা দেং জিয়াও পিং অনেক অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করেন যা জিয়াংসুর অনেক প্রদেশকে গড়ে তুলতে সাহায্য করে যেমন উক্সি ও সুঝু শহর। সুঝু শহরে চীনের একমাত্র শিল্প পার্ক রয়েছে যেটা সিঙ্গাপুরের তৈরী।

জিয়াংসুর রয়েছে শ্যাংডং ও গুয়াংডং এর পরে তৃতীয় সর্বোচ্চ জিডিপি যা ২০০৭ সনে ছিল ৩৩,৬৮৯ ইউয়ান মাথাপিছু, এটা জিয়াংসুকে চীনের মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রদেশে পরিনত করেছে।

প্রদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৪.৮% সেসাথে ২০০৭ সালে সর্বনিম্ন জিডিপি ছিল ২.৫৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ।

জিয়াংসু প্রদেশে ভ্রমণের স্থানসমূহ

নানজিং অনেক চাইনিজ রাজবংশের রাজধানী শহর হওয়ায় এর প্রচুর ঐতিহাসিক সম্পদ রয়েছে তার মধ্যে সান ইয়াত সেন সমাধিসৌধ, পার্পল পর্বতমালা, জুয়ানউ হ্রদ, মিং রাজবংশ সিটি ওয়াল এবং গেট, জিমিং মন্দির, নানজিংএর কনফুসিয়াস মন্দির এবং নানজিং ম্যাসাকার মেমোরিয়াল অন্যতম।

আপনার যদি সুজু ভ্রমণের সময় থাকে তাহলে অবশ্যই ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ক্লাসিক্যাল গার্ডেন অব সুজু, হুকি টাওয়ার এবং হানশান মন্দিরের মতো বিখ্যাত জায়গাগুলো ভ্রমণ করবেন।

অন্যান্য দেখার মতো জিনিস হচ্ছে থিন ওয়েস্ট লেক অব ইয়াংঝুউ এবং উক্সিতে দুনিয়ার সবচেয়ে উচ্চ বুদ্ধ মূর্তি।

Social Media