জিয়াংসি প্রদেশকে জানুন

জিয়াংসি প্রদেশ চীনের দক্ষিণে অবস্থিত। জিয়াংসি প্রদেশের আনহুই, ফুজিয়ান, ঝেজিয়াং, গুয়াংডং, হুনান এবং হুবেই প্রদেশের সাথে সীমান্ত রয়েছে।

জিয়াংসির স্থানীয় ইতিহাস
জিয়াংসি প্রদেশ ছিল কম্যনিস্টদের মূল ভিত্তিভূমি এবং কিং রাজবংশের পতনের পর কম্যুনিস্টরা তাদের বিপ্ল¬বকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কৃষকদেরকে দলে নিয়োগ দেয়া শুরু করে। ১৯২৭ সালের ১ আগস্ট এই জিয়াংসি প্রদেশেই চীনা গৃহযুদ্ধের সময় নানচ্যাং বিদ্রোহ শুরু হয়। যখন কুওমিনটাং সরকার কম্যুনিস্টদের নির্মূল করার চেষ্টা করছিল তাদের নেতা জিয়াংসি প্রদেশের পশ্চিম ও দক্ষিণের পাহাড়ে লুকিয়ে থাকতেন। চীনা সোভিয়েত রিপাবলিক সরকার ১৯৩১ সনে গঠিত হয় এবং রুইজিন শহরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যা আজও পূর্বের রেড ক্যাপিটাল হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৫ সনে কম্যুনিস্টরা লুকানো অবস্থান থেকে প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে ‘লং মার্চ টু ইয়ানআন’ শুরু করে।

জিয়াংসির ভৌগলিক অবস্থান
জিয়াংসি প্রদেশ জিউলিং, মুফু ও লুওক্সিয়াও, উউই, হুয়াইউ, ডাইউ, এবং জিউলিয়ান পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত। জিয়াংসির উত্তর অংশ নীচু কিন্ত্ত দক্ষিণে পর্বত ও উপত্যকা ছড়িয়ে আছে। ২১৫৭ মিটার উচু মাউন্ট হুয়াংগাঙ জিয়াংসির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

জিয়াংসি প্রদেশের প্রধান নদী হচ্ছে ‘গান’ উত্তর থেকে দক্ষিণে পয়ইয়াং হ্রদ পর্যন্ত বয়ে গিয়েছে। লেক পয়ইয়াং চীনের বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ যেটা আবার ইয়াংতজি নদী পর্যন্ত বয়ে গিয়েছে।

জিয়াংসি ভ্রমণের সময় আপনি অবশ্যই জিয়ান, নানচ্যাং, ঈংতান, জিউজিয়াং, জিংদেঝেন, পিংসিয়ান, গানঝুউ এবং ফুঝুউ শহর ভ্রমণ করবেন।

জিয়াংসির জলবায়ু

জিয়াংসির জলবায়ু প্রায় গ্রীষ্মমন্ডলীয়, গড় তাপামত্রা জানুয়ারী মাসে ৩ থেকে ৯ ডিগ্রী সে. এবং জুলাই মাসে ২৭ থেকে ৩১ ডিগ্রী সে.।

জিয়াংসির স্থানীয় অর্থনীতি
চীনের অন্যান্য প্রদেশের মতো ধান হচ্ছে জিয়াংসির প্রধান ফসল। জিয়াংসির অন্যান্য অর্থকরী ফসল হলো আঙুর বীজ ও তুলা। সোনা, রুপা, তামা, ইউরেনিয়াম এবং টাঙস্টেন হলো প্রদেশের প্রধান প্রধান খনিজ। জিয়াংসির প্রধান কাউন্টিগুলো হলো ডাইউ কাউন্টি টাঙস্টেন মাইনস এবং ডেক্সিং কাউন্টি তামা খনিসহ। ২০০৬ অর্থবছরে সর্বনিম্ন জিডিপি ছিল ৫৫০ বিলিয়ন ইউয়ান এবং মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১২,৫৬২ আরএমবি।

জিয়াংসির স্থানীয় সংস্কৃতি
প্রাচীনকালে জিয়াংসি প্রদেশ ছিল চান বৌদ্ধ শিক্ষার কেন্দ্র। জিয়াংসি হাক্কা স্থাপত্যের ঐতিহ্য বহন করে।

জিয়াংসি এর অপেরার জন্যও বিখ্যাত নিজ প্রদেশে এবং আশপাশের প্রদেশগুলিতে। জিয়াংসির রান্না করা খাবার খুবই সুস্বাদু এবং এগুলো তৈরী হয় মরিচ, লংকা এবং অন্যান্য মসলা সহযোগে।
জিয়াংসি প্রদেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা

জিয়াংসি ৯৫০ কি.মি. রেল সড়ক দ্বারা ঝেজিয়াং প্রদেশের সাথে যুক্ত।

জিয়াংসি প্রদেশের আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থানসমূহ
পৃথিবীর দুইটি বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দির জিয়াংসিতে অবস্থিত। লৌহ বুদ্ধ মন্দির ও ডুংলিন মন্দির সারা পৃথিবীর বৌদ্ধদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার যদি যথেষ্ট সময় থাকে, উত্তরের জিউজিয়াং এর বন্দর নগরীতে অবস্থিত মাউন্ট লুশান রিজোর্ট এ ভ্রমণ করতে পারেন।

ঈংতান শহরের লঙ্গুশান রিজোর্ট দেখা যেতে পারে যেখানে তাওইজম এর মূল জায়গা এবং তাওইস্ট ঈংতান সফরে আসেন।

ইউনেস্কো লুশান জাতীয় পার্ককে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি দিয়েছে।

Social Media